Home » Snapchat এবং Instagram ফিল্টার কিভাবে কাজ করে?

Snapchat এবং Instagram ফিল্টার কিভাবে কাজ করে?

how do snapchat and instagram filters work

ফিল্টার শব্দটি স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি শব্দ, এবং এই সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের কাছে এই ফিল্টার একটি অত্যন্ত প্রিয় জিনিস। 

যারা এই ফিল্টার সম্পর্কে অবগত নয় তাদের যদি খুব অল্প কথায় এই ফিল্টার সম্পর্কে বলতে হয় তাহলে বলতে হবে , ফিল্টার হল এমন একটি সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর মুখের বৈশিষ্ট্যগুলিকে পরিবর্তন করতে সক্ষম। এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি নামে একটি প্রযুক্তি ব্যবহার এটি কাজ করে৷

ফোনে এই সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করার সময় আপনি ফিল্টারের মাধ্যমে  আপনার মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য গুলি কে পরিবর্তন করতে পারে। 

ধরা যাক কোন ব্যক্তি চশমা ব্যবহার করেন না কিন্তু এই সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করার সময়ে ফিল্টারের মাধ্যমে তিনি তার মুখের সাথে চশমা যোগ করতে পারেন। আবার যদি কারো মুখে কোন দাড়ি না থাকে তাহলে এই ফিল্টারের মাধ্যমে তিন ভাবে তার মুখের সাথে দাঁড়িয়ে লাগানো সম্ভব। 

এটি সুনতে অনেকটা ম্যাজিকের মতো লাগলেও ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে রিয়েল টাইম এ আপনার মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করাটা আসলে প্রযুক্তির কারসাজি। 

আজ এই পোস্ট এ আমারা জানবো ফিল্টার কি ভাবে কাজ করে এবং এই ফিল্টার এর পর্দার আড়ালে আসলে কি হয়। 

আরও জানুন :- গরিলা গ্লাস (Gorilla Glass) কি?

ফিল্টার এর উৎপত্তি 

ফিল্টার আবিষ্কারের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, ফিল্টার যে টেকনোলজির ওপর নির্ভর করে কাজ করে সেটিই নতুন কিছু নয়। ফেসবুক অনেক আগের থেকেই এই টেকনোলজি ব্যবহার করে আসছে। 

আপনি হয়তো মনে করতে পারবেন ফেসবুকে যদি কোন গ্রুপ পিকচার আপলোড করে সেই পিকচারে অন্যদের ট্যাগ করতে হয় তাহলে ফেসবুক নিজের থেকেই ছবির মধ্যে থাকা মুখ গুলিকে শনাক্ত করে ফেলতে পারে। 

how do snapchat and instagram filters work
Group picture tag in facebook

ছবির মধ্যে মুখ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া ফেসবুক অনেক আগের থেকেই করে আসছে,  তবে হ্যাঁ বর্তমানে এই প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করে তোলা হয়েছে যাতে এটি ক্যামেরা তে রিয়েল টাইম কথা বলার সময় দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারে। 

সোশ্যাল মিডিয়া ফিল্টারের ব্যবহার 2015 সালে শুরু হয়েছিল।  যখন Snapchat ইউক্রেন এর একটি স্টার্টআপ “Looksery” কে অধিগ্রহণ করে । সেই সময় তারাই একমাত্র কোম্পানি ছিলেন যারা এই ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করতেন । 

তবে বর্তমানে প্রায় প্রত্যেক কোম্পানির কাছেই এই টেকনোলজি রয়েছে।  বর্তমানে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ফিল্টারগুলি এতটাই নির্ভুল যে এগুলি যখন আপনার মুখে কোন বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে তখন সেটা আসল না নকল তা বোঝা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে দাঁড়ায় । এমনকি ফিল্টার গুলি আপনার মুখের সাথে সাথে চারপাশের বিভিন্ন জিনিস ও চিনতে পারে।

এই সমস্ত ফিল্টারগুলি তে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় আর নাম অগমেন্টেড রিয়েলিটি । কেউ কেউ এটিকে ‘সোশ্যাল অগমেন্টেড রিয়েলিটি’ হিসাবে বর্ণনা করেন, তবে আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, এটি computer vision, Augmented Reality , এবং Artificial Intelligence (AI) এর সংমিশ্রণ।

স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের এই ফিল্টারগুলির নিজস্ব সংস্করণ রয়েছে তবে সেগুলি প্রায় একই জিনিস। 

অগমেন্টেড রিয়েলিটি কি?

অগমেন্টেড রিয়েলিটি হল এমন একটি প্রযুক্তি যা কোন ছবির মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তিত করতে সাহায্য করে। এর সাহায্যে আপনি ভার্চুয়াল জগতকে বাস্তব জগতের সাথে একত্রিত করতে পারেন, অর্থাৎ এই প্রযুক্তির সাহায্যে কোন কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ছবিকে বাস্তব কোন জিনিসের ছবির সাথে এমনভাবে মেশানো সম্ভব যাতে , সেই মিশ্রণের ফলে তৈরি হাওয়া ছবিকে সত্যি বলে মনে হয়। 

অগমেন্টেড রিয়েলিটি আসলে একটি উন্নত প্রযুক্তি যা ফিল্টার ছাড়াও আরও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় কিন্তু আমরা এখানে শুধুমাত্র ফিল্টার এর ব্যাপারে জানব। 

ফিল্টার কিভাবে কাজ করে?

ফিল্টার প্রথমে কোন ছবি বা ভিডিওর মধ্যে গুলি কে খুঁজে বের করে বা সনাক্তকরণ করে, এবং তারপর সফটওয়্যার এর মাধ্যমে মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলির একটি ম্যাপ তৈরি করে। তারপর সেই বৈশিষ্ট্য গুলি কে বিকৃত করে বা ছবির/ ভিডিওর মধ্যে নতুন কোন ফিচার এড করে। 

সনাক্তকরণ : কম্পিউটারকে বা কোন সফটওয়্যার কে মুখ এবং মুখের বৈশিষ্ট্য সনাক্ত করতে এবং চিনতে শেখানো কোনও সহজ কাজ নয়।

ছবির মধ্যে বিভিন্ন জিনিস কে যাতে সহজেই বোঝা যায় বা চিনতে পারা যায় তার জন্য কম্পিউটার ছবিটিকে প্রথমে  গ্রেস্ক্যালে (সাদা কাল ছবি তে) রূপান্তরিত করে। 

এরপর কম্পিউটার ছবির মধ্যে থাকা pixel গুলিকে পর্যবেক্ষণ করে এবং pixel contrast এর pattern খুঁজে বেড় করে। 

Viola-Jones “অবজেক্ট ডিটেকশন ফ্রেমওয়ার্ক
Viola-Jones “অবজেক্ট ডিটেকশন ফ্রেমওয়ার্ক

এর কাজের জন্য  Viola-Jones “অবজেক্ট ডিটেকশন ফ্রেমওয়ার্ক” নামে একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।

ম্যাপিং : কোন নির্দিষ্ট ছবির মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে এবং মুখের বৈশিষ্ট্য ট্যাগ করতে অ্যাক্টিভ শেপ মডেল (ASM) ব্যবহার করা হয়। 

মুখের বৈশিষ্ট্য গুলিকে চিহ্নিত করার জন্য কতক গুলি পয়েন্ট এর একটি সেট থাকে, যা একটি পয়েন্ট ডিস্ট্রিবিউশন মডেল (PDM) গঠন করে।

Point Distribution Model (PDM)
Point Distribution Model (PDM)

মুখের এই বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন পয়েন্ট গুলিকে চিহ্নিত করার জন্য মেশিন লার্নিং মডেল এবং বিভিন্ন ডেটার (অর্থাৎ আগে থেকে চিহ্নিত করা ছবির) সাহায্যে এই সফটওয়্যার গুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় । যাতে ভবিষ্যতে নতুন কোন ছবির মধ্যে মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করতে পারে। 

মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং তার জন্য নির্ধারিত পয়েন্টগুলি খুঁজে বের করার পর এটি এই পয়েন্টগুলি কে সংযুক্ত করে একটি ‘3D জাল’ তৈরি করে।

ছবির মধ্যে যদি মুখের স্থান পরিবর্তন হয় তাহলে মুখের এই 3D জাল তার সাথে সাথে স্থান পরিবর্তন করে।

পরিবর্তন: এরপর এই ‘3D জাল’ এর সাহায্যে মুখের বৈশিষ্ট্যগুলিকে পরিবরতিত বা বিকৃত করা যেতে পারে, অর্থাৎ, এর সাহায্যে আপনার মুখকে ফোলা দেখানো যেতে পারে , আপনার নাককে সূক্ষ্ম দেখানো যেতে পারে বা আপনার চোখ বড় দেখানো যেতে পারে।

ছবিরে মেকআপের মতো বিভিন্ন ইফেক্ট তৈরি করতে ছবিগুলির ওপর মেকআপের লেয়ার ওভারলে করা হয়।

উপসংহার

সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়া এআর এর মধ্যে থাকা ফিল্টারগুলি কীভাবে কাজ করে তা এখন আপনি বুঝতে পেরেছেন।এগুলি আপনার মুখ শনাক্ত করে এবং ম্যাপ করে। এবং তারপর মুখে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে।