Home » জিপিএস (GPS) কি? এর কাজ এবং এর বৈশিষ্ট্য

জিপিএস (GPS) কি? এর কাজ এবং এর বৈশিষ্ট্য

জিপিএস কি এর কাজ এবং এর বৈশিষ্ট্য

বর্তমানে প্রযুক্তির অনেকদূর এগিয়ে গেছে , প্রযুক্তির এই উন্নতির কারণে আজ এমন অনেক কাজ খুব সহজেই করতে পারি যা আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে পর্যন্ত চিন্তাই করা যেত না। 

 আজ এই পোস্টে আমরা যে প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলবো তার সাহায্যে আমরা আমাদের অবস্থান জানতে পারি।  এই প্রযুক্তির নাম জিপিএস। আজ এই পোস্টে আমরা জানবো জিপিএস কি? জিপিএস কিভাবে কাজ করে?  ইত্যাদি 

জিপিএস কি বাংলা ? 

গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS) হল একটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নেভিগেশন সিস্টেম। যা একটি বস্তুর অবস্থান খুঁজে বের করতে ব্যবহৃত হয়। 

GPS সিস্টেম, কমপক্ষে 24টি উপগ্রহের সমন্বয়ে গঠিত হয়। GPS যেকোনো আবহাওয়ায় 24 ঘন্টা কাজ করে। 

জিপিএস প্রযুক্তি 1960-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্বারা প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরে 1980-এর দশকে বেসামরিক ক্ষেত্রে এটি ব্যাবহার এর অনুমতি দেওয়া হয়। 

বর্তমানে বিভিন্ন অটোমোবাইল, স্মার্টফোন, smartwatch,  এবং জিআইএস ডিভাইসের মধ্যে জিপিএস রিসিভার ইনবিল্ড থাকে। 

তবে যে সমস্ত ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তির ব্যবহার সবথেকে বেশি হয় সেগুলি হল মোবাইল, বিমান, রেল, বাস এবং যানবাহনে ব্যবহৃত হয়, এই সব ক্ষেত্র গুলির মধ্যে পরিবহনে এটি সব থেকে বেশি ব্যবহৃত হয়। 

এই প্রজুক্তির সাহায্যে, আমরা খুব সহজেই যে কোনও জায়গায় যাওয়ার পথ খুঁজে পেতে পারি, আমরা পথ খুঁজে পেতে পারি। অর্থাৎ আমাদের বর্তমান অবস্থান থেকে গন্তব্য স্থলের দুবত্ত এবং সেখানে যাওয়ার সহজ পথ খুঁজে পেতে পারি। 

GPS এর Full Form

GPS এর পুরো নাম – গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (Global Positioning System)। 

জিপিএস কিভাবে কাজ করে?

জিপিএস সিস্টেমে 24টি স্যাটেলাইট রয়েছে যা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় 12,000 মাইল (বা 19,300 কিমি) উপরে অবস্থিত। তারা প্রতি 12 ঘন্টায় একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, এই স্যাটেলাইট গুলির গতি প্রায় 7,000 mph বা 11,200 কিমি প্রতি ঘণ্টা। স্যাটেলাইট গুলি নিজেদে কক্ষপথে নিজেদের মধ্যে ব্যবধানে রেখে এমনভাবে অবস্থান করছে যাতে অন্তত চারটি উপগ্রহের সাথে বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। 

এ তো গেল স্যাটেলাইটের অবস্থান এর কথা।  এখন আসুন আমরা জেনে নেই এই স্যাটেলাইট কিভাবে কাজ করে এবং কি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্যান্য বস্তু স্থান নির্দেশ করে। 

কোন GPS সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজন, কোন নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট এর সঙ্গে অন্যান্য স্যাটেলাইটের সঠিক সম্পর্ক স্থাপন। 

প্রতিটি জিপিএ স্যাটেলাইট তার নেটওয়ার্ক  এর মধ্যে অবস্থিত অন্যান্য স্যাটেলাইট গুলিকে একটি সিগন্যাল পাঠায় যার সাহায্যে অন্যান্য স্যাটেলাইট গুলি প্রথম স্যাটেলাইট এর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে । এই সিগ্নাল এর মাধ্যমে অন্যান্য স্যাটেলাইট গুলি জানতে পারে প্রথম স্যাটেলাইট এর অবস্থান, কক্ষপথ এবং সঠিক সময়। 

কোন বস্তু বা পৃথিবীর উপর অবস্থিত কোন জিপিএস রিসিভার এর অবস্থান নির্ণয় করার জন্য “ জিপিএস রিসিভার ত্রিভুজ” নামক একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। কোন রিসিভারের অবস্থান সঠিক ভাবে নির্ধারণের জন্য কমপক্ষে তিনটি উপগ্রহের প্রয়োজন, যদিও যেকোনো জিপিএস সিস্টেম এর মধ্যে বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করার জন্য চারটি স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়। 

জিপিএসের ব্যবহার 

জিপিএস সাধারণত পাঁচটি ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। যা নিম্নরূপ-

  • Location (অবস্থান) – কোন স্থানের অবস্থান খুঁজে বের করতে।
  • Navigation (নেভিগেশন) – এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছানোর পথ নির্দেশ।
  • Tracking (ট্র্যাকিং ) – যে কোনও বাস্তু বা ব্যক্তিগত গতিবিধির উপর নজর রাখা।
  • Mapping (ম্যাপিং ) – সঠিক মানচিত্র তৈরি করা।
  • Timing (সময় ) – সঠিক সময় নিরধারন।

GPS এর ইতিহাস 

আপনি ইতিমধ্যে জিপিএস সম্পর্কে অনেকটাই জেনে গেছেন, তবে এ ছাড়াও জিপিএস এর ইতিহাস সম্পর্কে যদি বলতে হয় তাহলে বলতে হবে। 

GPS-এর আগে, LORAN এবং Deca দুটি নেভিগেশন সিস্টেম 1940-এর দশকে তৈরি হয়েছিল, যেগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। 1957 সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন প্রথম স্পুটনিক চালু করেছিল তখন GPS তৈরি হয়েছিল। 

এক্ষেত্রে জিপিএস সম্পর্কিত একটি প্রশ্নও থেকে যায়, জিপিএস কে আবিস্কার করেন? জিপিএস আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকান বিজ্ঞানীদের একটি দল যারা স্পুটনিকের রেডিও ট্রান্সমিশন নিরীক্ষণ করছিলেন।

জিপিএস সিস্টেম এর অন্যান্য ধরন

বিশ্বে জিপিএস-এর মতো অন্যান্য আর অনেক সিস্টেম রয়েছে, যেগুলিকে সাধারনত গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিএনএসএস) হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়। GLONASS রাশিয়া দ্বারা নির্মিত একটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক।  ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির গ্যালিলিও এবং চীন এর বেইডু নামক এই ধরনের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক রয়েছে।   

জিপিএস ব্যাবহার এর সুবিধা 

  • GPS ব্যবহারকারীর রিয়েল টাইমে অবস্থান ভিত্তিক তথ্য দেয়। এটি বিভিন্ন ধরণের অ্যাপ্লিকেশন যেমন ম্যাপিং, অবস্থান, আবহাওয়ার তথ্য, গতিবিধি বিশ্লেষণ ইত্যাদিতে সহায়ক।
  • জিপিএস সিগন্যাল সারা বিশ্বে বিদ্যমান, এটি বিশ্বের স্যাটেলাইট দ্বারা চালিত, তাই এটি পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় থেকে অ্যাক্সেস করা যেতে পারে।
  • আবহাওয়া জিপিএস-এর কার্যক্ষমতাকে কোন রকম ভাবে প্রভাবিত করতে পারে না। অর্থাৎ আবহাওয়া যে রকমই হোক না কেন জিপিএস তার নিজের মতন কাজ করে যাবে। 
  • আপনি যদি একটি নতুন বা অচেনা জায়গায় যান, তাহলে আপনি জিপিএসের সাহায্যে খুব সহজেই কাছাকাছি অবস্থিত রেস্টুরেন্ট, হোটেল, শপিং মল, পেট্রোল পাম্প ইত্যাদি খুঁজে পেতে পাড়বেন।
  • এটি গন্তব্যে পৌঁছানোর পথের প্রতিটি বাঁকের দিক নির্দেশ করে, যাতে আপনি সহজেই আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
  • অন্যান্য নেভিগেশন সিস্টেমের তুলনায় GPS-এর খরচ খুবই কম। কম খরচের কারণে, এটি মোবাইল ফোনের মতো অন্যান্য প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা যেতে পারে যা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
  • জিপিএস সিস্টেম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা নিয়মিত এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তাই এটি আরও উন্নত।

জিপিএস ব্যাবহার এর অসুবিধা 

  • মহাকাশে স্যাটেলাইট এর কাজকর্ম বিঘ্নিত হলে জিপিএস কাজ করা বন্ধ করে দেয়, এই ক্ষেত্রে মানচিত্রে Real-time অবস্থান জানা সম্ভব নয় এবং এর জন্য বিকল্প হিসাবে ব্যাক আপ করতে হয়৷
  • GPS চিপ কোন মোবাইল ডিভাইসে লাগানো থাকলে তা বেশি শক্তি খরচ করে, যার কারণে ব্যাটারি 8 থেকে 12 ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এর জন্য বারবার  মোবাইল ডিভাইস টি রিচার্জ করা  প্রয়োজন হয়ে পড়ে। 
  • ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের মতো চরম বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির তে জিপিএস সঠিক ভাবে কাজ করতে অক্ষম।
  • GPS এর সিগনাল কংক্রিটের মতা দেয়াল বা বড় কাঠামো ভেদ করতে সক্ষম নয়। ব্যবহারকারী এটি বাড়ির ভিতরে বা ভূগর্ভস্থ জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন না।