Home » কম্পিউটার কি ? – সংজ্ঞা,বৈশিষ্ট্য,প্রকারভেদ » ল্যাপটপ কাকে বলে | Laptop এর কাজ ও আবিষ্কার এর ইতিহাস

ল্যাপটপ কাকে বলে | Laptop এর কাজ ও আবিষ্কার এর ইতিহাস

ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তির এই যুগে, সবকিছুই অনেক বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠছে। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করতাম । কিন্তু সময়ের সাথে সাথে  কম্পিউটারের ও রুপান্তর ঘটেছে এবং এর ফলে আমতা এটিকে সর্বত্র নিয়ে যেতে পারি।  

 এমন একটি মেশিন যা আমরা যখন খুশি, যেখানে খুশি ব্যবহার করতে পারি। আমরা এই আবিষ্কারকে ল্যাপটপ বলি। আপনারা অনেকেই নিশ্চয়ই ল্যাপটপ ব্যবহার করেছেন, কিন্তু ল্যাপটপ কাকে বলা হয় এবং ল্যাপটপের ব্যবহার কি তা অনেকেই জানেন না।

তাই ল্যাপটপ সম্বন্ধে এর সমস্ত তথ্য জানার জন্য  এই পোস্টটি  শেষ পর্যন্ত অবশ্যই পড়ুন।

ল্যাপটপ কাকে বলে

ল্যাপটপ একটি ছোট ব্যক্তিগত কম্পিউটার যা একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের থেকে অনেক টা ছোট। এটি কম্পিউটার এরই একটি বিকশিত রূপ। 

এটি এসি পাওয়ার বা ব্যাটারির সাহায্যে চলে এবং সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়, যেমন কলেজ, অফিস, বিমান, বা অন্য কোন পাবলিক প্লেস। 

ল্যাপটপকে নোটবুক কম্পিউটারও বলা হয় কারণ এটি একটি নোটবুকের আকারের এবং এটিকে নোটবুক এর মত একইভাবে ভাঁজ করা যায়।

যদি আপনি ল্যাপটপ শাব্দটির অর্থ জানতে চান , তাহলে তা হল – ল্যাপ (অর্থাৎ ‘কোল’) এবং টপ (অর্থাৎ ‘এর উপরে’) অর্থাৎ, এমন একটি ডিভাইস যা আমরা আমাদের কোলে রেখে ব্যবহার করতে পারি। এই ডিভাইসের দুটি অংশ রয়েছে , একটি অংশে হল screen এবং অন্য অংশে রয়েছে কীবোর্ড, টাচপ্যাড সহ বাকি উপাদানগুলি।

Laptop এর Full Form

ল্যাপটপের full form বা পুরো নাম-

L – Lightweight
A – Analytical
P – Platform with
T – Total
O – Optimized
P – Power 

ল্যাপটপের বিভিন্ন অংশ

  1. Display
  2. CPU
  3. GPU
  4. Memory
  5. Internal Storage
  6. Removable Media Drive
  7. Input/Output Ports
  8. Expansions Cards
  9. Battery and Power Supply
  10. Cooling Fan
  11. Accessories

ল্যাপটপ কে আবিষ্কার করেন

ল্যাপটপ নামে এই ছোট পোর্টেবল কম্পিউটারের প্রস্তুতি 1970 থেকে শুরু হয়েছিল, যা প্রথম Alan Key 1968 সালে কল্পনা করেছিলেন এবং 1972 সালে লিখিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল। 

প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ পোর্টেবল কম্পিউটার, IBM 5100, 1975 সালের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসে। 

তখন থেকেই ল্যাপটপের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং প্রযুক্তির প্রতিটি অগ্রগতির সাথে এটি ক্রমাগত বিকশিত হতে থাকে।

ল্যাপটপ দিয়ে কি কাজ করা যায়:

এখানে আমরা ল্যাপটপের প্রধানত চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে আলোচনা করলেও সাধারণত ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের একই কাজ। তবে ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারে মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো এদের আকার। যা কিছু ক্ষেত্রে এদের পারফামেন্স ও কাজের গতিতে ও পার্থক্য সৃষ্টি করে।

তাহলে চলুন দেখা যাক ল্যাপটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে কি কি কাজ আমরা করতে পারি:

  • Text document নিয়ে কাজ করা
  • Spredsheet document নিয়ে কাজ করা
  • গান, ভিডিও বা মুভি দেখা
  • ফটো এবং ভিডিও এডিটিং করা বা বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া নিয়ে কাজ করা
  • অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করা
  • গেম খেলা
  • ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করা
  • সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করা

ল্যাপটপের বিভিন্ন প্রকার

  1. Traditional Laptop
  2. Notebook
  3. Convertible or Hybrid
  4. Desktop Replacement
  5. Rugged Laptop
  6. Business Laptop

ল্যাপটপের সুবিধা

ল্যাপটপের ফিজিক্যাল পোর্টেবিলিটি ফিচারের কারণে, আমরা সহজেই এটি শুধু বাড়িতে এবং অফিসে নয়, যে কোনো জায়গায় ব্যবহার করতে পারি। যেসব জায়গায় ডেক্সটপ কম্পিউটার নিয়ে জাওয়া সম্ভব না সেখানে ও ল্যাপটপ ব্যবহার করে আমরা আমাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারি।

ল্যাপটপের কিছু বিশেষ সুবিধা নিচে বলা হচ্ছে।

  • ছোট আকার – ল্যাপটপের আকার খুবই ছোট। এজন্য ল্যাপটপ রাখা বা এতে কাজ করার জন্য খুব কম জায়গার প্রয়োজন। 
  • পোর্টেবল ডিভাইস – ল্যাপটপের এই সুবিধা এটিকে ডেস্কটপ কম্পিউটারের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহার যোগ্য করে তোলে। আপনি এটি সহজেই যে কোন জায়গায় এটিকে বহন করতে পারেন। কারণ এর ওজন 3 কেজির ও কম। অতএব, আপনি এটি অফিস, স্কুল, কলেজ, হোটেল, বাস, ট্রেন যে কোন জায়গা থেকে ব্যবহার করতে পারেন।
  • ল্যাপটপ ব্যাটারি – প্রতিটি ল্যাপটপএ rechargable battery ব্যবহার করা হয়। একবার এটি চার্জ করার পরে, এটি বিদ্যুৎ ছাড়া ব্যবহার করা যেতে পারে। 
  • পৃথক ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসের প্রয়োজন নাই- ল্যাপটপে বিল্ট-ইন কীবোর্ড এবং মাউস রয়েছে। এবং আরো কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে যেমন স্পিকার ডিসপ্লে, ব্লুটু্‌ ওয়াই-ফাই হটস্পট, হার্ডডিস্ক, ডিভিডি রাইটার ইত্যাদি। সুতরাং কোন অতিরিক্ত সরঞ্জাম ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই।
  • শব্দ নেই – ল্যাপটপ নিঃশব্দে শান্তিপূর্ণভাবে তারসসব্দেকরে। এটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় খুব কম শব্দ করে। 

ল্যাপটপের অসুবিধা 

  • ব্যয়বহুল – একটি ল্যাপটপের দাম কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি। 
  • মেরামত ব্যয়বহুল – এর সমস্ত উপাদান ল্যাপটপের ভিতরেই ইনস্টল করা আছে। অতএব, ল্যাপটপের ত্রুটি হলে, এটি মেরামতের খরচ বেশি হয়, কারণ ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ কম্পিউটারের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল। এবং পাসাপাশি এটি একটি সূক্ষ্ম যন্ত্র যার জন্য পেশাদার লোক দরকার।
  • দ্রুত নষ্ট হওয়ার সুযোগ – ল্যাপটপের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ এটি একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং দুর্ঘটনাক্রমে ল্যাপটপে কোনো তরল পড়ে গেলে এর ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
  • শারীরিক ক্ষতি – ল্যাপটপ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চোখ, হাত এবং হাড়ের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। বিজ্ঞানীরা আরো বিশ্বাস করেন (প্রমানিত নয়)যে ল্যাপটপ থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর রশ্মি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। 
  • এটি কাস্টমাইজ করা সহজ নয় – ডেস্কটপের তুলনায় ল্যাপটপ সহজে কাস্টমাইজ করা যায় না। 

ল্যাপটপ কেনার আগে কি দেখা উচিত :

  • প্রথমত, মনে রাখবেন আপনি কিসের জন্য ল্যাপটপ কিনছেন। স্টাডি পারপাস, অফিস পারপাস বা এন্টারটেইনমেন্ট পারপাস এবং সেই অনুযায়ী ল্যাপটপ নির্বাচন করুন।
  • প্রসেসর যেন ভালো হয়, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রসেসর যত ভালো হবে, ল্যাপটপ তত ভালো চলবে।
  • ল্যাপটপে কমপক্ষে 4GB র‍্যাম থাকলে তবেই ল্যাপটপ ভালোভাবে চলবে। কম RAM ল্যাপটপকে ধীর করে দেবে।
  • আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী হার্ডডিস্ক নির্বাচন করুন। আপনি যদি গেম বা গ্রাফিক্স চালান, তাহলে আপনার বেশি হার্ডডিস্ক স্টোরেজ সহ ল্যাপটপ নেওয়া উচিত।