Home » ইন্টারনেট কি? ইন্টারনেটের সুবিধা-অসুবিধা ও ব্যবহার

ইন্টারনেট কি? ইন্টারনেটের সুবিধা-অসুবিধা ও ব্যবহার

ইন্টারনেট কি

আমরা ইন্টারনেটে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে থাকি, আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইন্টারনেটের বিভিন্ন রকমের কাজ করি। 

ইন্টারনেট বর্তমান যুগে এমন একটি মাধ্যম যা সারা বিশ্বকে একটি পরিবারের মতন করে তুলেছে,  এর সাহায্যে আমরা যখন ইচ্ছে দূরে অবস্থিত কোন মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি এবং কথা বলতে পারি।  

এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য ইন্টারনেট আজ একটি অপরিহার্য পরিষেবা।

ইন্টারনেট ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে ইন্টারনেট কি? এর ইতিহাস কি? সর্বোপরি, ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে? এই প্রশ্নগুলি শুনতে খুব সহজ মনে হলেও প্রত্যেকের কাছে এই সব প্রস্নের উত্তর নেই।

এই কারণেই আজ এই পোস্টে আমরা ইন্টারনেটের অর্থ, ইন্টারনেটের ইতিহাস, সুবিধা এবং অসুবিধা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করবো। 

ইন্টারনেট কি | ইন্টারনেট কাকে বলে

ইন্টারনেট হল একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে অনেক কম্পিউটার এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত রয়েছে।

 ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বের যেকোনো স্থানে অবস্থিত দুটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ এবং তথ্য বিনিময় করতে পারে।

কম্পিউটার, মোবাইল, স্মার্ট টিভি, ইন্টারনেটে গেমিং কনসোলের মতো বিভিন্ন ডিভাইস কে ইন্টারনেট এর সাথে যুক্ত করার জন্য টেলিফোন লাইন, কেবল, ফাইবার অপটিক্সের বা ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এর ব্যবহার করা হয়।

যখন দুই বা ততোধিক কম্পিউটার একসাথে সংযুক্ত হয়, তখন তাকে নেটওয়ার্ক বলা হয়। এই নেটওয়ার্ক অনেক রকমের হতে পারে যেমন প্রাইভেট, পাবলিক, স্কুল, কলেজ, বিজনেস বা সরকারী ইত্যাদি।  

এই সব ছোট – বড় নেটওয়ার্ক গুলি ইন্টারনেট এর মাধ্যমে একে ওপরের সাথে যুক্ত হয়, তাই ইন্টারনেটকে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্কও বলা যেতে পারে।

অবশ্যই পড়ুন

ইন্টারনেটের ইতিহাস

মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময়, আমেরিকান সামরিক বাহিনী একটি ভাল, বড়, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ পরিষেবা চেয়েছিল। যার ফল স্বারুপ

  • 1969 সালে, ARPANET নামে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল, যা চারটি কম্পিউটার সংযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছিল, তারপর ইন্টারনেটের অগ্রগতি সঠিকভাবে শুরু হয়েছিল। 
  • 1972 সালের মধ্যে, এর সাথে সংযুক্ত কম্পিউটারের সংখ্যা বেড়ে 37 হয়ে যায়। 
  • 1973 সালের মধ্যে এটি ইংল্যান্ড এবং নরওয়েতে বিস্তৃত লাভ করে। 
  • 1974 সালে, Arpanet সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, যা টেলনেট নামে পরিচিতি লাভ করে। .
  • 1980 সালে National Science Foundation (NSF) এর education ও research এর জন্য NSFnet নামের একটি network তৈরি করা হয় যা পরে ARPAnet এর সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয় এবং নাম দেওয়া হয় Internet 
  • 1982 সালে, নেটওয়ার্কের জন্য সাধারণ নিয়ম তৈরি করা হয়েছিল, এগুলিকে প্রোটোকল বলা হয়। এই প্রোটোকল TCP/IP (Transmission control protocol/Internet Protocol) নামে পরিচিত ছিল। 
  • 1990 সালে অর্পানেট এর বিস্তার আরও বড় করা হয় এবং ইন্টারনেট একটি নেটওয়ার্ক এর আকার পায়। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি কম্পিউটার ইন্টারনেটের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। 

ইন্টারনেটের মালিক কে?

এই প্রশ্নের উত্তর একটু কঠিন হতে পারে, একভাবে, ইন্টারনেট হল একটি বিশাল নেটওয়ার্ক যা অনেক নেটওয়ার্ক এবং infrastructure নিয়ে গঠিত, এমন অবস্থায় কোন একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া সম্ভব নয় ।

যদি আমরা অন্যভাবে দেখি, এর অনেক মালিক থাকতে পারে কারণ ইন্টারনেট চালানোর জন্য optical cable, ip address ইত্যাদি অনেক কিছু আছে।

এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত বিভিন্ন জিনিসের মান নির্ধারণ করে কিন্তু তাদেরও পুরো ইন্টারনেটের মালিক বলা চলে না। কোন একটি কোম্পানি বা কোন একটি দেশের সরকার সমগ্র ইন্টারনেটে মালিকানা দাবি করতে পারে না।

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে? 

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে তা বোঝার আগে, যে জিনিষ তা বোঝা দরকার তা হল।

যদি আমরা আমাদের কম্পিউটার এর সাহায্যে গুগলের ওয়েবসাইট খুলতে চাই, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কম্পিউটার একটি ক্লায়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।

অন্য দিকে  গুগল যে কম্পিউটারটি ব্যবহার করছে অর্থাৎ যে সিস্টেমে গুগল ওয়েবসাইটের ডেটা সংরক্ষিত রয়েছে সেটি সিস্টেম সার্ভার হিসেবে কাজ করবে।

যখন আমরা ওয়েব ব্রাউজারে google.com লিখে সার্চ দেব , তখন আমাদের কম্পিউটার অর্থাৎ ক্লায়েন্ট কম্পিউটার থেকে গুগলের সার্ভারে অনুরোধ যাবে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো অনুরোধ বা বার্তা গুলি কে একসাথে পাঠানো হয় না, সেগুলোকে প্যাকেট নামে বিভিন্ন অংশে ভাগ করা হয়, তারপর এই প্যাকেটগুলি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং পৌঁছানোর পর সাই প্যাকেট গুলিকে আবার এক সাথে যুক্ত করা হয়।

এখন এই প্রশ্নটি নিশ্চয়ই আপনার মনে আসছে যে কোটি কোটি মানুষ একই সাথে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, এর মানে হল এই রকম অসংখ্য প্যাকেট নেটওয়ার্কে ভ্রমণ করছে, তাহলে এই প্যাকেটগুলি কে কোথায় যাবে তা কিভাবে জানবে?

এর জন্য, IP address ব্যবহার করা হয়, যা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসের জন্য আলাদা হয়ে থাকে এবং এখান থেকে প্রতিটি প্যাকেট গন্তব্য স্থলের ঠিকানা জানা যায়।

আসুন এখন ধাপে ধাপে বুঝি কিভাবে ইন্টারনেট কাজ করে:

  • আপনি ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা একটি ইউ-আর-এল টাইপ করলেন।
  • আপনার ব্রাউজার ইউ-আর-এল থেকে জানতে পারে যে কোন প্রটোকল ব্যবহার করা হচ্ছে, যদি ইউ-আর-এলের শুরুতে http: // ব্যবহার করা হয়, তাহলে HTTP প্রোটোকল ব্যবহার করা হবে এবং যেখানে ftp: // থাকবে সেখানে FTP প্রোটোকল ব্যবহার করা হবে।
  • ব্রাউজার আপনার ISP সার্ভারে (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) অনুরোধ পাঠায়।
  • ISP ,  DNS এর কাছ থেকে আপনার টাইপ করা ইউ-আর-এলের এর IP address জানতে পারবে।
  • আইপি পাওয়ার পর ওয়েবসাইটের সার্ভারের ঠিকানা জানা যাবে এবং ওয়েব page এর জন্য সেই সার্ভারে অনুরোধ পাঠানো হয়।
  • সার্ভার সেই page টি আপনার ISP- কে পাঠায়।
  • আপনার ISP সেই page টি আপনার ব্রাউজারে পাঠায় এবং ওয়েব পৃষ্ঠাটি আপনার স্ক্রিনে উপস্থিত হয়।

ইন্টারনেট এর ব্যবহার

আজকের যুগে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। আজ প্রায় প্রতিটি অফিস, ব্যাংক, স্কুল, কলেজ ইত্যাদি কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। আসুন দেখি কোন কোন উপায়ে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি:

  • ই-মেইল
  • সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং যেমন ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি। 
  • গবেষণা করা 
  • ইবুক এবং অনলাইন ম্যাগাজিন 
  • খবর 
  • অনলাইন ব্যাংকিং
  • ই-কমার্স 
  • টিকিট বুকিং
  • ডাউনলোড ফাইল 
  • অনলাইন গেম খেলুন
  • অনলাইনে ভিডিও এবং সিনেমা দেখুন 
  • চাকরি খোঁজা 
  • ফ্রিল্যান্সিং
  • অনলাইন লেখা পরা

ইন্টারনেটের সুবিধা

  • তথ্য ভাণ্ডার: ইন্টারনেট হল একটি বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার  ।
  • সর্বদা উপলব্ধ:  দিন হোক বা রাত ইন্টারনেট সর্বদা উপলব্ধ।
  • দ্রুত:  তথ্য বিনিময়ের দ্রুততম এবং সর্বোত্তম উপায়। 
  • ব্যবহার করা সহজ: ইন্টারনেট অনেক কিছু সহজ করে দিয়েছে – এখন আমাদের অনেক কাজ ইন্টারনেট এর মাধ্যমে করে ফেলতে পারি।
  • অনলাইন শিক্ষা:  আপনি ঘরে বসে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে অনলাইন শিক্ষা নিতে পারেন।
  • অনলাইন মিটিং: আপনি আপনার সহকর্মী এবং কর্মচারীদের সাথে অনলাইন মিটিং করতে পারেন, এতে সময় বাঁচবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
  • অনলাইন টাকা: আপনি ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করেও অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

ইন্টারনেটের অসুবিধা

  • স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব : সারাদিন কম্পিউটার এবং মোবাইলে ব্যস্ত থাকার কারণে , স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব আজকাল দেখা যাচ্ছে।
  • ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার : কখনও কখনও আমরা এমন একটি ওয়েবসাইট পরিদর্শন করি যেখান থেকে কিছু ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হয় যা আমাদের কম্পিউটার, মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি ক্ষতি করতে পারে।
  • হ্যাকিংয়ের বিপদ: যদি আপনার কম্পিউটার হ্যাক হয়ে যায় তাহলে আপনি অনেক রকম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, আপনার সমস্ত ডেটা চুরি হতে পারে এবং সেগুলি ভুলভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • প্রতারণার শিকার হওয়া:  ইন্টারনেট যেমন আমাদের অনেক সুবিধা করে দিয়াছে তেমনি অনেক রকম ভাবে প্রতারিত হওয়ার পথ ও খুলে দিয়েছে।
  • ডার্ক ওয়েব: আমরা ইন্টারনেট বলতে যা বুঝি সেথা সমগ্র ইন্টারনেট এর মাত্র 5% ,বাকি 95% ডার্ক ওয়েব। 

আশা করি ইন্টারনেট কি? সে বিষয়ে আপনার একটা স্পষ্ট ধারনা হয়েছে।